পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সাগরকন্যা মাইজদী...



                                            একাত্তরের পুর্বের মাইজদী,

ছোট বেলায় আমার একটা অসুখ ছিল।অসুখ ছিল মাথা গুরানির অসুখ।এই চার ছয় মাস ভাল আছি।ঋষ্টপিষ্ট সুন্দর চপল প্রকৃতির খোকা ছিলম আমি।হঠাৎ করে মাথা গুরানি উঠলে বমির পর বমি আসতো।কিছুই খেতে পারতামনা।একনাগাড়ে চার পাঁচদিন ঠান্ডা বিছানায় কাঠ হয়ে পড়ে থাকতাম। মা বারবার কলার বরগ মাথার তলে দিয়ে পানি ঢালতেন, অন্য কোন কাজের বেডিকে দিয়েও ঢালাতেন। আবার আমার সেজবোন নুর নাহারও অনবরত পানি ঢালতেন।কোন ঔষুধপত্ত লাগতো না, এমনিতেই ভালো হয়ে যেতাম।এরকম অসুখবিসুক থাকলেও আমার শ্মরন শক্তি ছিল অত্যান্ত প্রখর।এখনও এই মধ্য বয়সেও সেই রকমই আছে।আর তাই শৈশবের সৃতিগুলি আজ কায়মনে অনর্গল আওড়ানোর চেষ্টা করছি।
আমরা ভাই বেরাদর কেহই আমার দাদাকে দেখিনি।আমার দাদা এমরাত আলি নাকি অল্প বয়সেই আট সন্তান রেখে মারা গিয়েছেন।সাত ছেলে এক মেয়ে।বাবার  এবং দাদির মুখে শুনেছি তাঁর নাকি পেটের ব্যদনার অসুখ ছিল।দাদাকে না দেখলে কি হবে আমরা চাচাতো ভাই জেটাতো ভাই প্রায় সবাই দাদিকে দেখেছি।এই তো সেদিন উন্নিশ ছিয়াশি সালের মাঝামাঝি সময়ে শতাধিক বছর বয়সে আমার দাদি ইন্তেকাল করেছিলন। আমার শ্পষ্ট খেয়াল আছে সেদিন সন্ধায় আমিই দাদির সাথে শেষ কথা বলেছিলাম।দাদির ঘর আমাদের ঘরের সামনে ছিল।সন্ধ্যেবেলায় মা আমাকে কিছু পান সুপারি দিয়ে বললো তোর দাদিকে দিয়ে আয়।আমি দিতে গেলে দাদি বললো কিচু সেঁছে দে।দাদির মুখে একটি দাঁতও ছিল না।তাই বড় লৌহার একটা সেঁছনি একটা মাটির কলস আর দুতিনটা মাটির ভাসন আর নারিকেলের মালার কয়টা  টকবা ছিল দাদির সম্পদ।  দাদি থাকতেন একটি ছোট ছনের ঘরে, পরে অবশ্য একোয়ারের পর সবাই মিলে উনাকে বড় করে টিনের একটা ঘর করে দিয়েছিলেনে। উনি সে ঘরে একেলা থাকতেন।বেশ বড় একটি চৌকিতে গুমাতেন। মাঝেমধ্যে আমার কাজিন ব্রাদার মাহার সেলিম ভাই এসে দাদির সাথে গুমাতেন।দাদির সেই ঘরে তার সাত সন্তান সবাই বুড়ো বুড়ো নাতি নাতকুর সবাই এসে বসতেনেআসে পাসের পড়সিরাও এসে বসতেন। দাদির সাথে কথা বলতেন আড্ডা দিতেন দাদিকে পান সেঁছে দিতেন।নিজেরাও খেতেন,পাতিল ভরে কেউ হয়তো লাল চা বানিয়ে দিয়ে যেতেন।ভাসন ভরে মিটা ছাড়া লবন চা টগবা ভরে খেতেন। দাদির জন্য খাবারও আসতো সবার ঘর থেকে।কোন বাঁধাধরা নিয়ম ছিলনা।বেশির বাগই যেত আমাদের ঘর থেকে।দাদি আমার মায়ের হাতের খাবারই বেশি পছন্দ করতেন।আমার মাকে এবং আমার মাকেও বেশি ভালোবাসতেন।আমার মা-ই ছিল বাড়ির সবছেয়ে বড়বধু। যদিও আমার বাবা ছিলেন সবার মধ্যে সেজ।
সেই এক রুপ কথার গল্পের মত। অনেক কথা অনেক গল্প কোনটা থুয়ে কোনটা বলবো।একজন হিন্দু কবিরাজ দাদির ঘরে এসে বসতেন,দাদিকে ঔষুধ দাওয়াই দিতেন।একআনা দুআনা পয়সা দাদি তার হাতে দিতেন। সেই কবিরাজের নাম ছিল হরকুমার।তার মুখেও একটি দাঁতও ছিলনা।দাদির মত সেঁছা পান খেতেন।মুখদিয়ে লাল লাল পানের রস গড়িয়ে পড়তো।হরকুমারের ছিল এক পুত্র, সেও আবার কবিরাজ।তার নাম ছিল নরকুমার। তার মুখে ছিল মাত্র একটা দাঁত। সেও সেঁছা পান চিবাতো।আমার শ্পষ্ট খেয়াল আছে অনেক সময় এই কবিরাজদের নিয়ে হাসির তুফান উঠতো দাদির ঘরে।
দাদি আমাকে ভাই ডাকতো।সেই নেংটা বয়স থেকে দাদি আমাকে সাথে নিয়ে পুকুরে গড়ে মাছ ধরতে যেতেন।সেসময় মছে ভরা ছিল পুকুর ডোবা কুয়া গড়ে।অনেক গুলি বড়শি পেলে রাখতেন।পেতেনও একটু পরপর উঠাতেন।মাছ ধরে থাকতো। পরে মাছ নিয়ে মায়ের কাছে দিতেন মা পাকায়ে দিতেন।দাদি অনেক সময় আমাকে খেপাতো এই বলে যে অমুকের গরু তোগো ধান খাই পালাইতেছে।আমি তখন গালাগালি করতে করতে বাড়ির সামনের দিকে ছুট দিতাম।আর মা আমাকে কোলে করে তুলে আনতেন।
ছোট বেলায় মা আমাকে একটা লুঙ্গি কিনে দিয়েছিল।আমি লুঙ্গিটা মোটেই পিন্দতামনা। সমবয়সি সবাই থাকতো বেশির ভাগই নেংটা।আমি কেন লুঙ্গি পিন্দবো? আমি লুঙ্গিটা সবসময় কাঁদে ঝুলিয়ে রাখতাম।একবার আমরা সমবয়সি কয়টা ছেলে পুকুর পাড়ে পাঠ কাটি জ্বেলে বিঁড়ির মত খাচ্ছিলাম।সবাই নেংটা বাদাম।হঠাৎ করে আমার চাচাতো ভাই রহিম জলিলের মাথায় জোরে দুষ্টমি করে একটি পাদ দিল।জলিল মাথা নোয়ায়ে হরমুল ধিরাচ্ছিল। অমনি রহিমের পাদের সাথে সাথে বাহির হলো পাতলা পায়খানা।আর সবগুলি জলিলের মুখে মাথায়।সাথে সাথে সবাই হাসতে হাসতে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
 
তখনও আমাদের দেশটা ছিল অখন্ড পাকিস্তানের পাঁচটা প্রদেশের মধ্যে একটা মাত্র প্রদেশ বা খন্ড।যা পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিগনিত হত।চীপ মার্শল লৌহ মানব হিসেবে খ্যাত আইয়ূব খান তখন অখন্ড পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্টিত।বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের দাবিতে পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যযজ্ঞের পর পুঁষে উঠা বাঙ্গালী যুক্তফ্রন্ট ঘটন করে সরকার ঘটন করে।যুক্তফ্রন্টের সংসদে একটি মারামারিও হট্রগোলকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার অযুহাত তুলে জেনারেল আইয়ূব খান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তিনি সর্বেসর্বা হয়ে বসলেন।তিনি অসুন্তষ্ট বাঙ্গালীকে সন্তুষ্ট করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করলেন।প্রথমে তিনি একটি বই লিখলেন, প্রভূ নয় বন্ধু।তারপর তিনি বেসিক ডেমক্রেসি বা মৌলিক গনতন্ত্র  নামে এক অদ্ভূত গনতন্ত্রের নাম ঘোষনা করলেন।তাছাড়া তিনি অবহেলিত অনুন্নত পুর্ব পাকিস্তানে উন্নতির জন্য বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহন করেন। এমনকি এই স্বৈরচার বাংলা ভাষাকেও বদল বাংলা উর্দু মিলায়ে এক অদ্ভূত ভাষা সৃষ্টি করারও পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।যা ডান বাম দিক থেকে নয় চায়না ভাষার মত উপরের দিক থেকে লিখা হবে।ইতিহাস বলে অখন্ড পাকিস্তানে একমাত্র আইয়ূবের শাসনামলেই বেশি উন্নতি হয়েছিল।সে যাই হউক আইয়ূবের সেই উন্নিতির বলি হয়েছি আমরা পশ্চিম মাইজদীর শতাধিক পরিবার।
 
একোয়ারে আমাদের বিশাল বাড়িটার প্রায় কম অর্ধেক পড়ে গেল।আমাদের দুটা বড় পুকুরের অর্ধ্যেক ভরাট করে,বাগানের গাছগাছরা কেটে টোটালি উদাম নেংটা বাড়িতে পরিণত করলো।দক্ষিন দিকে ছাড়া বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকাতে জঙ্গল কেটে কয়েকটি পরিবার সেখানে ঘর সরিয়ে নিল। আবার দুতিনটি পরিবার দুরে অন্যত্র গিয়ে ঘর বাঁধল।











   

শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সাগরকন্যা মাইজদী...বৃহত্তম

                                বৃহত্তম নোয়াখালী জেলার প্রাণকেন্দ্র ছিল এই মাইজদী শহর,


 বৃহত্তম নোয়াখালী বাসীর অনেকেই হয়তো আদো জানেনা প্রাচীন নোয়াখালীর ইতিহাস। একসময় প্রাচীন সভ্যতার এক সুবিশাল সুতিকাগার ছিল আমাদের এই প্রাণের প্রিয় নোয়াখালী।সেই ছিল এক বিশ্ময়।গঙ্গা যমুনা পদ্মা মেঘনা ব্রম্মাপুত্র আর তিব্বত হিমালয় কৈলাশের প্রবিত্র ধুলোবালি এসে উর্বর পলিমাটির সোনার আকরে পরিণত করেছিল আমাদের এই নোয়াখালীর মাটিকে।নোয়াখালীর মাটির মত এত উৎকৃষ্ট উর্বর মাটি আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি।এতই উর্বর যে শুধু এক মুঠো শুকনো বীজ বপে দিলেই এখানে ফলতো সোনালি ফসল,আর গজিয়ে উঠতো ফুল-ফলাদি বৃক্ষ।ভরে যেত কিষানের গোলা,খই এর মত হাসি ফুটতো তরুন তরুনীর মুখে।এক দুই নয় বছরে তিন চার খোন্দ ফসল ফলতো নোয়াখালীর উর্বর মাটিতে।এমন উর্বর মাটির সন্ধান আমি পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাইনি।গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ আর বাগান ভরা ছিল নানা জাতের ফলফলাদি।গুবাক নাড়িকেল খেজুর আর তাল তমালের বৃক্ষ ছিল সারি সারি।খেতে খেতে ফলতো নানা জাতের সুগন্ধি ধান,সাক্কর খোরা, কালিজিরা, কনকচুড়া আর বিন্নি ধানের সুগন্ধে মৌ মৌ করতো পানোরমা।ধান কাটার মৌশমে উপছে পড়তো কৃষানের মুখে হাসি।ধান কাটার ধান লাগানোর সময় কৃষানের জারিসারি গানের সুরে মুখরিত হতো দিগন্তবদি।আহা! সে কি আনন্দের দিন গুলি।সবদিক দিয়ে স্বাভলম্বি ও সম্বৃদ্ধশালি মানুষ ছিল এই নোয়াখালী বাসী।আর সেই কারণেই বলা যায় নোয়াখালী শুধু বাংলাদেশের নয় সমগ্র বিশ্বের মাঝে একটি শ্রেষ্ট জেলা,আর আমরা নোয়াখাইল্যারা হলাম শ্রেষ্ট জাতি।

এই উর্বর শ্যামল মাটিই সূখি ও সম্বৃদ্ধ করে তুলেছিল নোয়াখালী বাসীকে।আর সেই কারণেই ক্ষিরোদ সাগরের উপকুলে সুবর্ন সমতটে প্রাচীন সভ্যতার এক বিশাল অটবী গজিয়ে উঠেছিল নোয়াখালীর মাটিতে।নোয়াখালী বাসীর ছিল প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি।ছিল অসাধরণ আন্তরিকতা উদারতা এবং মহানুভবতা।সেই কারণেই প্রাচীন ভূলুয়া বন্দর পরবর্তিতে সন্দিপ বন্দর জগত জুড়ে খ্যাতি লাভ করেছিল।এই সন্দিপ বন্দরেই এসে নোঙর ফেলতো ভীন দেশি হরেক রকমের জাহাজ। আগমন ঘেটেছিল বেনিয়া ওলন্দাজ হার্মাদ, গ্রীস মগ পার্সিয়য়ান ফরাসি আর ওরিয়েন্টাল আরবি বেদুঈন সওদাগরদের।প্রাচ্য প্রাশ্চাত্বের বনিক বেনিয়া মুনিঋষি জ্ঞানি গুনি কবি সাহিত্যিক দার্শণিকরা ভিড় জমিয়েছিল এখানে।তারা এসে এখানেই খুঁজে পেয়েছিল  দুদন্ড শান্তির ঠিকানা।তারা গড়ে তুলেছিল নানা কারুকার্য খচিত  বাড়িঘর দোকান পাট অফিস আদালত মক্তব মাদরাসা মসজিদ মন্দির পাঠাগার।তাদের পদভারে একদিন মুখরিত হয়ে উঠতো এই ঐতিহাসিক নগরি।আজকের দিনের সিটি করপোরেশন বা কসমপলিট সোস্যাইটির চেয়ে কোন অংশে কম ছিলনা সেই নগরটা। সে সভ্যতার কথা আজ  আমাদের অনেকেরই অজানা।

রাক্ষুসী সমুদ্রের অতল গহব্বরে তলিয়ে যাওয়া আমাদের হাজার হাজার বছরের হারানো ঐতিহ্য প্রাচুর্য ও সভ্যতার সেই এক করুন অধ্যায়। অরচিত অরক্ষিত ইতিহাসের নির্মমতায় আর প্রাকৃতির ভয়াভহতায় বার বার আসমানকেও বিধির্ন করেছে নোয়াখালী বাসির করুন কান্নার ট্রেজিডি।নোয়াখালী বাসীর প্রাণের আকুতি আর কান্নার তুফান আকাশে বাতাসে আর সাগরের নোনা জলের সাথে আজো মিশে আছে।এই তো সেদিনের কথা সত্তরের বারই নভেম্বরে একরাতেই দশ লক্ষাধিক মানুষের তাজা প্রাণ কেড়ে নিল ভয়ানক জলউচ্ছাস গোর্কি।

 নোয়া খাল থেকে নোয়াখালী জেলার উৎপত্তি বা নাম করণ করা হয়েছে।ইতিহাসবেত্তাদের মনগড়া এই নীতি কথা আমার বিশ্বাস করতে খুবি কষ্ট হয়, দুঃখও হয়। সবাই শুধু নোয়াখালী নোয়াখালী নোয়াখালীর হতিহাসের কথা বলছে। আরে ভাই তাহলে আমাদের পুরান খালীর ইতিহাস গেল কই।সে যে ছিল এক অমর রুপ কথার ইতিহাস।হারিয়ে যাওয়া পম্পে নগরির করুন ইতিহাস!

আমরা সকলেই জানি উত্তর নোয়াখালিতে পানি নিঃষ্কাশনের জন্য চৌমুহানীর পাশ দিয়ে একটা নোয়া খাল খনন করে উত্তরে ডাকাতিয়া নদী ও পুর্বে ফেনি নদীর সাথে সংযোগ স্হাপন করা হয়েছিল।বলা বাহুল্য সে খালের আজ কোন অস্তিত্বই খুজে পাওয়া মুশকিল।তবু ওরা বলে বেড়ায় নোয়া খাল থেকে নোয়াখালী নাম করন হয়েছে। তা হলে আমার জিজ্ঞাসা পুরানখালীতে কি কোন পুরান খাল ছিল?নোয়াখাইল্যা দ্বীন মোহাম্মদ শেম্পু আবিষ্কার করে বিশ্ব বিজয় করার ইতিহাস তো আজো সবার অজানা। 
কেহই সঠিকভাবে বলতে পারেনা পুরানখালীর ইতিহাস। কিন্তু রুদ্র ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজো মাইজদী বড় জামে মসজিদে দুচারটি ঝাড়বাতি ঝুলছে।মানব সভ্যতার আরেক শহর আলেক জান্দ্রীয়ার মত আমাদের পুরানখালী শহরটাও সাগর গর্ভে বিলীন হবার পূর্বে তড়িগড়ি করে এই ঝাড়বাত্তি গুলি নিয়ে এসে এই জামে মসজিদে সংরক্ষন করে রাখা হয়েছে।এই জাড়বাত্তি গুলি দেখলেই অনুমান করা যায় কতই না অনিন্দ সুন্দর ও উন্নত মানের ছিল আমাদের পুরান খালি শহরটা।মহাকালের সাক্ষী হয়ে আছে সোনুপুরে অবস্হিত রাণীর গীর্জা এবং দক্ষীন দিকে হেলান দিয়ে পড়া কয়েকটি নাড়িকেল গাছ।কালের আরো সাক্ষী হয়ে আছে, নোয়াখালীতে আজো বসবাস করিতেছে ভীন দেশি গোরা বর্ণের কিছু মানুষ।তারা সতাব্দীর পর সতাব্দী মাইজদীতে বসবাস করলেও নোয়াখালীর ভাষায় কথা বললেও সুশ্পষ্ট অনুধাবন করা যায় যে এরা সবাই আজনবী বা পরদেশি।অনেকে আবার গর্ব করে বলে থাকে আমাদের পূর্ব পুরুষরা ধর্ম প্রচার করতে এদেশে এসেছিল,আর ফিরে যাওয়া হয়নি।টোটালি মিথ্যে কথা ভাগ্যের অণ্বেষনে যে এসেছিল সে কথা কৌশলে এড়িয়ে যায় সবাই। তাদের হাবভাব দেখেই বুঝা যায় নোয়াখালী যে কত সম্বৃদ্ধ ছিল।
এই ভয়াল ভয়ানক থাবা থেকে বাঁচতে সরল সিদা নোয়াখালি বাসি সিত্তিসান হয়ে দেশ দেশান্তরে পাড়ি জমিয়েছে। অনেক তামাসা করে বলে নোয়াখাইল্যাকে মাটির নীচেও পাওয়া যায় আবার চাঁদে গেলেও পাওয়া যায়।এমনো তো হতে পারে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন প্রথম নোয়াখাইল্যারাই দেখেছিল।এমনও তো হতে পারে আমেরিগো ভেচপুচি বা কলম্বাস নয় আহাম্মেদ নামে কোন বাঙ্গালীই প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেছে।
আজ সময় হয়েছে প্রচুর গভেষনা করে আমাদের হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি কার্লচার পুনুরুদ্ধার করে নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার।যাতে করে ওরা বুঝতে পারে আমরা বানের পানিতে ভেস আসা কোন জাতি গোষ্টি নয়।আমাদেরও সুনির্দিষ্ট একটা জাতিসত্বা আছে।পৃথিবীর যে কোন উন্নত জাতির সাথে আমাদের তুলনা করা চলে।ধন্য নোয়াখালীর মাটি,ধন্য নোয়াখালী বাসী, ধন্য মাইজদী, আই লাভ ইউ।

মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সাগরকন্যা মাইজদী..





                                   একাত্তরের পূর্বের মাইজদী

একাত্তরের পূর্বে আমাদের প্রিয় মাইজদী গাঁ-টা ছিল ছায়ায় মায়ায় ঘেরা শান্তশিষ্ট শোনসান সুনিবিড় একটি অনিন্দ সুন্দর গ্রাম।দিগন্তবদি ছিল হরিৎ রঙের মেলা,চতুর্দিকে সুন্দরের চড়াচড়ি।দুর দুরান্তের পথিক পর্যটক মানুষ এটাকে মাইজদী শহর বা মাইজদী কোর্ট বলে সন্বোধন করলেও আমাদের কাছে এটা ছিল শুধুই মাইজদী গাঁ বা মাইজদী গেরাম।আমরা চিটিপত্রেও  ভিলেজ মাইজদী গ্রামই লিখতাম।অনেকে আবার মাইজদীকে এক গল্লির শহরও বলতো।

উন্নিশ আটশট্টি সালের দিকে আমি তখনও কোলের শিশুই প্রায়।তখন আমার বয়স ছিল সাড়ে তিন কি চার বছর।আমার চাচাতো বোন রাজিয়ার বিয়ে হতে যাচ্ছিল। রাজিয়া ছিল এতিম মা-হারা মেয়ে।রাজিয়ারা ভাইবোন দুজনকে রেখে রাজিয়া ভিজার মা অল্প বয়সেই মারা গেছেন।কথিত আছে বড় টাকার বান্ডিল দেখেই নাকি হার্টফেল করে মারা গিয়েছিলেন তিনি।সত্যমিথ্যা কিছুই জানিনা। মুলত শুনা কথা। রাজিয়া ভিজার মা আমার আপন চাচি হলেও রিস্তায় তিনি আমার মায়ের  মামাতো বোন ছিলেন। মা-ই নাকি ওকালতি করে  তাকে আমার হাবিব উল্লা চাচার সাথে বিয়ে দিয়েছেন।সেই যাই হউক আমরা আমাদের সেই চাচিকে কখনও দেখিনি।দেখেছি রাজিয়া ভিজাকে।নিশ্চয় রাজিয়া ভিজার মতই তার মাও ছিলেন।রাজিয়া ভিজা শান্ত শিষ্ট গুরু গম্ভির এবং বুদ্ধিমতি ছিলেন।তিনি বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসলে আমাদের ঘরে আসতেন। আমার মা এর সাথে বসে বসে কথা বলতেন।তারা ঢাকাতে থাকতেন, আমি একদুবার উনার বাসায় গিয়েছিলাম। আপন ভাইয়ের মতই তিনি আমাকে আদর সমাদর করেছেন।আমার সেই চাচাতো বোন রাজিয়া ভিজা কিছুদিন আগে ইন্তেকাল হয়েছেন।তাকে মাটি দেওয়া হয়েছে আমাদের বাড়ির সামনে মসজিদের পাশে।তার স্বামীও অত্যান্ত ভালো মনের জ্ঞানি একজন মানুষ। আমি দেশে আসলে উনার সাথে বসে বসে অনেক কথা হতো। সে যাই হউক,চাচি মারা যাবার পর চাচা কিছুদিন পরই অন্য বিয়ে করেছেন।চাচা চাচি আজ কেউই আর বেঁচে নেই।

রাজিয়া ভিজার বিয়ের উছিলায় বাড়ির  অন্নান্য বিয়ে হয়ে যাওয়া বোনদেরকে তাদের শ্বশুর বাড়ি থেকে নাইওরি হিসেবে আনা হয়েছিল। আমার বাপ চাচারা ছিলেন সাত ভাই।সাত ভাইয়ের সংসারে আমরা অনেক ভাই বোন।রাজিয়া ভিজার বিয়েতে সবার চোখে মুখে উপছে পড়া আনন্দ ছিল।আমার আপন বড় দুবোনের মধ্যে তো বড় বোন দেলাফ রোজ থাকতেন স্বামীর সাথে দিনাজপুর।ভাইসাব সেখানে তহশিলদারের চাকুরি করতেন।তাই তিনি আসতে পারেন নাই,কিন্তু আমার মেঝ বোন নুরজাহান নাইওরি হয়ে আসেন সেই বিয়েতে।নুরজানের ছেলে জাহাঙ্গীর তখন ছিল কোলে।ভাইসাব চাকুরি করতেন এনএসআই গোয়েন্ধা পুলিশ বিভাগে।তাদের বাড়ি ছিল মাইজদী বাজারের উত্তর দিকের প্রসিদ্ধ মজিদ হাজি বাড়ি।তিনিও এসেছিলেন সেই বিয়েতে।আমার শ্পষ্ট খেয়াল আছে তারা একদিন আগেই এসেছিলেন।

আমার বোন নুরজাহান ভালো গান করতে পারতেন।বাড়ির সব মেয়ে ছেলেরা সবাই পুরো রাত রাজিয়া ভিজাদের ঘরে গান বাজনা করে বিয়ের অনুষ্টানকে  উৎসব মুখরিত ও আনন্দময় করে তুলেছিলেন।তারা সবাই খাওয়া দাওয়াও করেছিল তাদের ঘরে। কিন্তু সকাল বেলায় দেখলাম এক আজব কান্ড।আমার যেই বোন নুরজাহানকে রাতে দেখলাম কেমন হাসিখুশি, সেই বোনটাকে দেখি সকাল বেলায় পাগলের মত বকাবকি করছে।বাড়ির সব মানুষ দাঁড়িয়ে তার দিকে অবাক বিশ্ময়ে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। বোনটি আমার পুরো বাড়ির উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছে নাচানাচি করছে।আবার কখনও কখনও কাউকে মারতে দৌড়ে যায়,কখনও বা এসে আমাকে কোলে তুলে আদর করছে,চুমো দিচ্ছে আর আবল তাবল বকাবকি করছে।আমি তো ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছি।মহিলারা ফিসফিশিয়ে  কেউ বলছে জ্বিনে পেয়েছে, কেউ বলছে পরীতে ধরেছে। পরী পেলে নাকি এমনি ভাবে নাচানাচি করে।আবার কেউ বলছে রাজিয়া ভিজার সৎ মা আমার চা্চি নাকি চিলের গোশতো খাইয়ে দিয়েছে।কেউ বলছে ধুতরা পাতা খাইয়ে দিয়েছে। চিলের গোশতো ধুতরা পাতার রস খাইলে নাকি মানুষ পাগল হয়ে যায়। আমার জানা নেই,বলতে পারব না।

বাংলায় একটি প্রবাধ আছে পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়,?আমার প্রিয় বোনটার অবস্হাও ঠিক সেই রকম হয়েছিল।সে আবল তাবল অনেক বকা বকছে আর বকছে। সবাইকে হুষিয়ার করছে,তোদের এখানে থানা হবে পুলিশ লাইন গারদ হবে।তোদের এখানে বড় বড় খাল হবে দীঘি হবে।দালান কোঠা হবে, ইত্যাদি।একবার হঠাৎ করে  সে উদাউ হয়ে গেল। চারিদিকে  সবাই খোঁজাখঁজি করে কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।এমতা অবস্হায় আমার সেজ বোন নুর নেহার ছোট বোন মায়াকে কোলে নিয়ে আমাদের বাড়ির উত্তর দিখে কাঁদতে কাঁদতে খুঁজতেছিল।হঠাৎ করে আমার বোন নুরজাহান পাকা ধান খেত থেকে বের হয়ে এসে নেরুকে জড়িয়ে ধরে বললো, কিরে বোন তুই এমন করে কাঁদছিস কেন? আমি তো বড় দীঘিতে গোসল করতে গিয়েছি।তখনো কিন্তু একোয়ার হয়নি, জেলখানার বড় দীঘিটিও কাটা হয়নি।তুই জানিস না এখানে যে বড় একটা দীঘি হবে? এই কথাগুলি আমার সেজ বোন নেরু ঘরে এসে পরে সবার সামনে বলেছিল।পরে সত্যিই জেলখানার বড় দীঘি কাটানো হয়েছে সেখানে।

এর মাত্র অল্প কিছু দিন পরেই সিএন্ডবির বড় বড় হলদে রঙের বল্ডুজার এসে গাছপালা সব উপড়িয়ে ফেলে ছোট বড় টিলাটালা কেটে সব সমান করে ফেললো।সরকারি একোয়ারে পড়া বাড়ি ঘরের অধিবাসিরা ঘর দরজা খুলে যে যার মত এদিকে সেদিকে চলে গেল।এক বাড়ির মানুষ শত বাড়িতে বিভক্ত হলো।সে এক করুন পরিণতি।অনেকটা নদী বাঙা সর্বহারার মত।

হাজারে হাজার প্রায় লক্ষধিক তো হবে পিপড়ার মত শ্রমজীবি মানুষরা এসে দু-তিন মাসের মধ্যেই মাটি কেটে বড় বড় দীঘি খাল কেটে রাস্তাঘাট নির্মান করে মাইজদী নতুন শহরের পত্তন করে ফেললো।জেল খানর দীঘি পুলিশ লাইনের দুটা দীঘি এবং হাসপাতালের একটি দীঘির কাজ এক সাথেই শুরু হয়েছিল।বিল্ডিং এর কাজও একসাথে শুরু হয়েছিল।মাটিয়ালরা চলে যাবার পর শুধু  রাজ মিস্ত্রিও  শ্রমিকরা  বাঁকি কনস্ট্রাকসনের কাজ চালিয়ে গেল।জেলখানা পুলিশ লাইন আধুনিক সদর হাসপাতাল স্কুল আবাসিক ভবন সবকিছুই এক বছরের মধ্যে বেশির ভাগই নির্মান হয়ে গেল।কিন্তু চালু হলো না।বেশ কয় বছর ধরে এমনিই খালিই পড়েছিল সব।চালু হয়েছিল দেশ স্বাধিনের পর।এই সব বড় বড় বিল্ডিং এর ভিতর বর্ষার দিনে আমরা বল খেলতাম, লুকোচুরি খেলতাম।মাঠে গরু চেড়ে দিতাম। আর রয়ে যাওয়া গাছাগাছরা থেকে ফলমুল পেড়ে খেতাম।দুর দুর থেকে ছেলেমেয়েরা গরু ছাগল এনে চেড়ে দিত, আবার দুর্বা ঘাঁস তুলে সাথে করে নিয়ে যেত।

 এখানে কাজ চলার সময় আমার ছোট চাচা পাটোয়ারি এসে খুললো চা দোকান, তার পাশেই আরেক চাচা শফি সর্দার এসে খুললেন মুদি দোকান।আরো অনেক ছোটখাটো চা-নাস্তার দোকান খুলেছিল লোকজনে।গুলগুল্লা ডালের ভরা প্ররোটা  সাথে চা এগুলোই বানাতো বেশি।চলতোও ধুমছে।হাজার হাজার মাটিয়াল কাস্টমার মাটিতে বসেই খেত। রাতদিন কাজ চলতো।দুর দুর থেকে মাটিয়ালরা তো খড়ের ছালা নিয়ে এসে দুছালাকে একসাথ করে ঘর বানিয়ে স্হায়ি ভাবে থাকতো।রাতদিন কাজ চলতো।বড় বড় লাই-ওঁড়া ভরে তাদের জন্য ভাত পাকাতো বৃদ্ধ বয়সের এবং তরুন বয়সের ছেলেরা।একবার এক কান্ড ঘটেগেল।দেখি একটা ছেলেকে মাটিয়ালরা মারছে। ব্যপারকি? পরে জানতে পারলাম সেই ছেলেটা নাকি তরকারিতে তেলদাগার সরিসার তেলের পরিবর্তে লোহা গরম করে দাগা দিত। আর তেল গুলি নাকি ফের দোকানে বিক্রি করে দিত।ধরা পড়ার পরে এই অবস্হা।হাসির খোরাক হলেও ছেলেটা দুর্দান্ত ছালাক ছিলও বটে।
তাদের কাছ থেকে স্হানিয় লোকেরা বাল্টি ভরে ভাতের মাড় লয়ে গরুকে খাওয়াতো।আমরা স্হানিয় ছেলেরা গুরেফিরে এগুলো দেখতাম।বিকেল বেলায় মঠর সাইকেল করে শহর থেকে কন্ট্রাকটর সাহেবরা আসতেন টাকার বস্তা নিয়ে। মাটিয়ালের সর্দাররা হিসেব দিয়ে টাকা বুঝে নিতেন, সবাইকে বেঁটে দিতেন।আমরা চেয়ে চেয়ে দেখতাম টাকা গুনার দৃশ্য।
দেখতে দেখতে সবকিছু বদলে গেল।সুনসান  ছায়া সুনিবিড় মফস্বল গ্রামটা হয়ে গেল  আধুণিক  একটি নগর।বড় বড় বিল্ডিং,জেলাখানার বৃত্তওয়াল,আটাশ পিট চোওড়া কংক্রিটের পাকা রাস্তা।মাঝেমধ্যে মঠর যানের  ঠ্যা ঠ্যা শব্দ করে ছুটে যাওয়া,বেশ ভালো লাগতো অপূর্ব আনন্দ পেতাম। প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিসের সাথে পরিচয় হতে হতে আমিও যেন অল্প কিছু দিনের মধ্যে বেশ বড় হতে লাগলাম।আনন্দে উপভোগ করছিলাম সেই সোনালি শৈশবকে ।আজি এই মধ্য বয়সে এসেও শৈশবের সেই সৃতিগুলি আমার হৃদয় দর্পনে সিনেমার স্ক্রিনের মত বার বার ভেসে উঠে।

আরেকটা কথা না বললেই নয়,আমার এক দেড় বছর বয়সের সময় আমার এক পাঁয়ের হাঁটু পোড়া গিয়েছিল।সেই কথাও আমার শ্পষ্ট মনে আছে। আজো যেন চোখের সামনে ভাসছে।এক শীতের রাতে মা পাকঘরে চুলার সামনে একটা জলচৌকিতে আমাকে বসায়ে ধান সিদ্ধ করছিল।মায়ের সাথে একজন কাজের বেটিও ছিল।ঝিমানি এসে হঠাৎ করে চুলার ভিতরে খনখনে তুষের আগুনের মধ্যে আমার পাঁ ঢুকে গেল।কচি পাঁ সাথে সাথে পুড়ে পোসকা ধরে গেল।আমি কি কষ্ট পেয়েছি না পেয়েছি আমার মা আমার জন্য অনেক অনেক কষ্ট পেয়েছেন।মা আমার জন্য অনেক কেঁদেছেন।মাঁ এর সেই কান্না আজো আমার চোখে ভাসে।মা আমাকে নিয়ে একবার বড়দীগির পুর্ব পাড়ের পুরান হাসপাতালে নিয়ে গেলেন।পরে মাখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন,আবার বাড়িতে কবিরাজের কাছেও চিকিৎসা করিয়েছেন।অনেকদিন পরে সেই পোড়া খত শুকিয়েছিল।

সরকারি এই সব দালান কোঠা হওয়ার পুর্বে আমাদের এলাকায় অর্থ্যাৎ এই পশ্চিম মাইজদীতে পাকা বাড়ি বলতে ছিল মাত্র চারটা বাড়ি। তাও আবার সেমি পাকা বা সার্ট দেওয়াওলা।একটা ছিল মানির বাড়ি,মানির বাবা অবঃ পুলিশ ইন্নিসপেক্টরের বাড়ি, উকশিায়ারের বাড়ি, এবং মজিদ কেরণীর বাড়ি।মানি ছিলেন বিধবা মহিলা। তার স্বামী নাকি ডাক্তার ছিলেন।তিনি মারা গিয়েছেন।আমরা দেখি নাই।
ঐ একোয়ারের বছর ছিদ্দিক ডাক্তার নামে আমাদের এক দুরের পড়শি এসে কমপ্লিট ছাদ ঢালাই দিয়ে পাকা বাড়ি নির্মান করেন।সম্পুর্ন ব্রিকের উপর সুন্দর এই বাংলো বাড়িটি বাইন্ডারি ওয়াল দিয়ে নির্মান করেছিলেন।কথিত আছে এই বাড়িটির উপরে যতটুকু নীচেও ঠিক ততটুকু।আমাদের চোখের সামনেই বাড়িটি নির্মিত হয়েছিল।বাড়িটি নির্মান হওয়ার পরে সাদা চুনের লেপন দেওয়ার পর ঝকমক করতো, চোক লেগে থাকতো। আমরা বাড়ির ভিতরে গুরেফিরে অনেক বার দেখেছি।

বাড়িটি নির্মানের বেশ কিছুদিন পরে ডাক্তার সাহেব রংপুর বা দুর কোন জেলাথেকে এসে এই বাড়িতে উঠলেন।যেদিন এসে উঠলেন সেই দিন রাতেই ডাঃ সাহেব হার্ট এটাক করে মারা গেলেন।পরে শুনেছি লোকে কহা বলা করতো, এই ডাক্তার সাহেব নাকি মানুষের ফিৎরা জাকাতের টাকা দিয়ে লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হয়েছেন। কিন্তু এলাকার মানুষের দিকে কোনদিন ফিরেও তাকাননি।এমন কি সত্রুপক্ষের টাকা খেয়ে নাকি একজন মানুষকে বিষাক্ত ইঞ্জেকসান দিয়ে হত্যা করেছেন।সে কারণেই নাকি তার এমন অবস্হা।হায় হায়রে ডাক্তার সাহেব স্বপ্নের বাড়িতে এক রাতও গুমাতে পারেননি।সত্যমিথ্যা বলতে পারব না।সবি শুনা কথা।

ডাক্তার সাহেবের স্ত্রি এবং সন্তানরা ছিল টুকটুকে সুন্দর।দেখতে চালচলনে অবিকল ফরিনারের মত। দু ছেলে চার মেয়ে সবাই বড় হয়ে গেছে।মেয়েদের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে বড় বড় পুলিশ অফিসার আর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের সাথে।পরে ছোট মেয়েরও ধুমধামে বিয়ে হয়েছিল এখানেই। বাসায় স্হায়ি ভাবে থাকতো বড় ছেলে পারবেজ আর তার মা।পারবেজ ছিল টাউট  টাইফের মানুষ এলাকার মানুষকে মোটেই পাত্তা দিত না।শহরে কিছুদিন কন্ট্রাক্টরি করতো,হুন্ডা একটা চালাতো আর মদ খেত জুয়া খেলতো।একবার এক্সিডেন্ট হয়ে পাঁ ভাঙার পর হুন্ডা চালানো চেড়ে দিয়েছে সে।বাসায় পালতো জার্মানী শিফা কুকুর।দেখতে বাঘের মত।দেখলে তো দুরের কথা কুকুরের আওয়াজ শুনলেও ভয় বুক ধক ধক করতো।কুকুরটাকে অবশ্য শিকল দিয়ে বাসার ভাউন্ডারি ওয়ালেল ভিতর বেঁধে রাখা হতো। মাঝে মাঝে পারবেজ কুকুরটাকে বাহিরে এনে চেড়ে দিত। আমরা দেখে ভয়ে আতঙ্কিত হতাম।আজ সেই পারবেজ বাসার ছাদে মুরগি পালে,সম্পুর্ন একজন খালি  আদমি।