পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সাগরকন্যা মাইজদী...বৃহত্তম

                                বৃহত্তম নোয়াখালী জেলার প্রাণকেন্দ্র ছিল এই মাইজদী শহর,


 বৃহত্তম নোয়াখালী বাসীর অনেকেই হয়তো আদো জানেনা প্রাচীন নোয়াখালীর ইতিহাস। একসময় প্রাচীন সভ্যতার এক সুবিশাল সুতিকাগার ছিল আমাদের এই প্রাণের প্রিয় নোয়াখালী।সেই ছিল এক বিশ্ময়।গঙ্গা যমুনা পদ্মা মেঘনা ব্রম্মাপুত্র আর তিব্বত হিমালয় কৈলাশের প্রবিত্র ধুলোবালি এসে উর্বর পলিমাটির সোনার আকরে পরিণত করেছিল আমাদের এই নোয়াখালীর মাটিকে।নোয়াখালীর মাটির মত এত উৎকৃষ্ট উর্বর মাটি আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি।এতই উর্বর যে শুধু এক মুঠো শুকনো বীজ বপে দিলেই এখানে ফলতো সোনালি ফসল,আর গজিয়ে উঠতো ফুল-ফলাদি বৃক্ষ।ভরে যেত কিষানের গোলা,খই এর মত হাসি ফুটতো তরুন তরুনীর মুখে।এক দুই নয় বছরে তিন চার খোন্দ ফসল ফলতো নোয়াখালীর উর্বর মাটিতে।এমন উর্বর মাটির সন্ধান আমি পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাইনি।গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ আর বাগান ভরা ছিল নানা জাতের ফলফলাদি।গুবাক নাড়িকেল খেজুর আর তাল তমালের বৃক্ষ ছিল সারি সারি।খেতে খেতে ফলতো নানা জাতের সুগন্ধি ধান,সাক্কর খোরা, কালিজিরা, কনকচুড়া আর বিন্নি ধানের সুগন্ধে মৌ মৌ করতো পানোরমা।ধান কাটার মৌশমে উপছে পড়তো কৃষানের মুখে হাসি।ধান কাটার ধান লাগানোর সময় কৃষানের জারিসারি গানের সুরে মুখরিত হতো দিগন্তবদি।আহা! সে কি আনন্দের দিন গুলি।সবদিক দিয়ে স্বাভলম্বি ও সম্বৃদ্ধশালি মানুষ ছিল এই নোয়াখালী বাসী।আর সেই কারণেই বলা যায় নোয়াখালী শুধু বাংলাদেশের নয় সমগ্র বিশ্বের মাঝে একটি শ্রেষ্ট জেলা,আর আমরা নোয়াখাইল্যারা হলাম শ্রেষ্ট জাতি।

এই উর্বর শ্যামল মাটিই সূখি ও সম্বৃদ্ধ করে তুলেছিল নোয়াখালী বাসীকে।আর সেই কারণেই ক্ষিরোদ সাগরের উপকুলে সুবর্ন সমতটে প্রাচীন সভ্যতার এক বিশাল অটবী গজিয়ে উঠেছিল নোয়াখালীর মাটিতে।নোয়াখালী বাসীর ছিল প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি।ছিল অসাধরণ আন্তরিকতা উদারতা এবং মহানুভবতা।সেই কারণেই প্রাচীন ভূলুয়া বন্দর পরবর্তিতে সন্দিপ বন্দর জগত জুড়ে খ্যাতি লাভ করেছিল।এই সন্দিপ বন্দরেই এসে নোঙর ফেলতো ভীন দেশি হরেক রকমের জাহাজ। আগমন ঘেটেছিল বেনিয়া ওলন্দাজ হার্মাদ, গ্রীস মগ পার্সিয়য়ান ফরাসি আর ওরিয়েন্টাল আরবি বেদুঈন সওদাগরদের।প্রাচ্য প্রাশ্চাত্বের বনিক বেনিয়া মুনিঋষি জ্ঞানি গুনি কবি সাহিত্যিক দার্শণিকরা ভিড় জমিয়েছিল এখানে।তারা এসে এখানেই খুঁজে পেয়েছিল  দুদন্ড শান্তির ঠিকানা।তারা গড়ে তুলেছিল নানা কারুকার্য খচিত  বাড়িঘর দোকান পাট অফিস আদালত মক্তব মাদরাসা মসজিদ মন্দির পাঠাগার।তাদের পদভারে একদিন মুখরিত হয়ে উঠতো এই ঐতিহাসিক নগরি।আজকের দিনের সিটি করপোরেশন বা কসমপলিট সোস্যাইটির চেয়ে কোন অংশে কম ছিলনা সেই নগরটা। সে সভ্যতার কথা আজ  আমাদের অনেকেরই অজানা।

রাক্ষুসী সমুদ্রের অতল গহব্বরে তলিয়ে যাওয়া আমাদের হাজার হাজার বছরের হারানো ঐতিহ্য প্রাচুর্য ও সভ্যতার সেই এক করুন অধ্যায়। অরচিত অরক্ষিত ইতিহাসের নির্মমতায় আর প্রাকৃতির ভয়াভহতায় বার বার আসমানকেও বিধির্ন করেছে নোয়াখালী বাসির করুন কান্নার ট্রেজিডি।নোয়াখালী বাসীর প্রাণের আকুতি আর কান্নার তুফান আকাশে বাতাসে আর সাগরের নোনা জলের সাথে আজো মিশে আছে।এই তো সেদিনের কথা সত্তরের বারই নভেম্বরে একরাতেই দশ লক্ষাধিক মানুষের তাজা প্রাণ কেড়ে নিল ভয়ানক জলউচ্ছাস গোর্কি।

 নোয়া খাল থেকে নোয়াখালী জেলার উৎপত্তি বা নাম করণ করা হয়েছে।ইতিহাসবেত্তাদের মনগড়া এই নীতি কথা আমার বিশ্বাস করতে খুবি কষ্ট হয়, দুঃখও হয়। সবাই শুধু নোয়াখালী নোয়াখালী নোয়াখালীর হতিহাসের কথা বলছে। আরে ভাই তাহলে আমাদের পুরান খালীর ইতিহাস গেল কই।সে যে ছিল এক অমর রুপ কথার ইতিহাস।হারিয়ে যাওয়া পম্পে নগরির করুন ইতিহাস!

আমরা সকলেই জানি উত্তর নোয়াখালিতে পানি নিঃষ্কাশনের জন্য চৌমুহানীর পাশ দিয়ে একটা নোয়া খাল খনন করে উত্তরে ডাকাতিয়া নদী ও পুর্বে ফেনি নদীর সাথে সংযোগ স্হাপন করা হয়েছিল।বলা বাহুল্য সে খালের আজ কোন অস্তিত্বই খুজে পাওয়া মুশকিল।তবু ওরা বলে বেড়ায় নোয়া খাল থেকে নোয়াখালী নাম করন হয়েছে। তা হলে আমার জিজ্ঞাসা পুরানখালীতে কি কোন পুরান খাল ছিল?নোয়াখাইল্যা দ্বীন মোহাম্মদ শেম্পু আবিষ্কার করে বিশ্ব বিজয় করার ইতিহাস তো আজো সবার অজানা। 
কেহই সঠিকভাবে বলতে পারেনা পুরানখালীর ইতিহাস। কিন্তু রুদ্র ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজো মাইজদী বড় জামে মসজিদে দুচারটি ঝাড়বাতি ঝুলছে।মানব সভ্যতার আরেক শহর আলেক জান্দ্রীয়ার মত আমাদের পুরানখালী শহরটাও সাগর গর্ভে বিলীন হবার পূর্বে তড়িগড়ি করে এই ঝাড়বাত্তি গুলি নিয়ে এসে এই জামে মসজিদে সংরক্ষন করে রাখা হয়েছে।এই জাড়বাত্তি গুলি দেখলেই অনুমান করা যায় কতই না অনিন্দ সুন্দর ও উন্নত মানের ছিল আমাদের পুরান খালি শহরটা।মহাকালের সাক্ষী হয়ে আছে সোনুপুরে অবস্হিত রাণীর গীর্জা এবং দক্ষীন দিকে হেলান দিয়ে পড়া কয়েকটি নাড়িকেল গাছ।কালের আরো সাক্ষী হয়ে আছে, নোয়াখালীতে আজো বসবাস করিতেছে ভীন দেশি গোরা বর্ণের কিছু মানুষ।তারা সতাব্দীর পর সতাব্দী মাইজদীতে বসবাস করলেও নোয়াখালীর ভাষায় কথা বললেও সুশ্পষ্ট অনুধাবন করা যায় যে এরা সবাই আজনবী বা পরদেশি।অনেকে আবার গর্ব করে বলে থাকে আমাদের পূর্ব পুরুষরা ধর্ম প্রচার করতে এদেশে এসেছিল,আর ফিরে যাওয়া হয়নি।টোটালি মিথ্যে কথা ভাগ্যের অণ্বেষনে যে এসেছিল সে কথা কৌশলে এড়িয়ে যায় সবাই। তাদের হাবভাব দেখেই বুঝা যায় নোয়াখালী যে কত সম্বৃদ্ধ ছিল।
এই ভয়াল ভয়ানক থাবা থেকে বাঁচতে সরল সিদা নোয়াখালি বাসি সিত্তিসান হয়ে দেশ দেশান্তরে পাড়ি জমিয়েছে। অনেক তামাসা করে বলে নোয়াখাইল্যাকে মাটির নীচেও পাওয়া যায় আবার চাঁদে গেলেও পাওয়া যায়।এমনো তো হতে পারে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন প্রথম নোয়াখাইল্যারাই দেখেছিল।এমনও তো হতে পারে আমেরিগো ভেচপুচি বা কলম্বাস নয় আহাম্মেদ নামে কোন বাঙ্গালীই প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেছে।
আজ সময় হয়েছে প্রচুর গভেষনা করে আমাদের হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি কার্লচার পুনুরুদ্ধার করে নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার।যাতে করে ওরা বুঝতে পারে আমরা বানের পানিতে ভেস আসা কোন জাতি গোষ্টি নয়।আমাদেরও সুনির্দিষ্ট একটা জাতিসত্বা আছে।পৃথিবীর যে কোন উন্নত জাতির সাথে আমাদের তুলনা করা চলে।ধন্য নোয়াখালীর মাটি,ধন্য নোয়াখালী বাসী, ধন্য মাইজদী, আই লাভ ইউ।

কোন মন্তব্য নেই: