পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সাগরকন্যা মাইজদী..





                                   একাত্তরের পূর্বের মাইজদী

একাত্তরের পূর্বে আমাদের প্রিয় মাইজদী গাঁ-টা ছিল ছায়ায় মায়ায় ঘেরা শান্তশিষ্ট শোনসান সুনিবিড় একটি অনিন্দ সুন্দর গ্রাম।দিগন্তবদি ছিল হরিৎ রঙের মেলা,চতুর্দিকে সুন্দরের চড়াচড়ি।দুর দুরান্তের পথিক পর্যটক মানুষ এটাকে মাইজদী শহর বা মাইজদী কোর্ট বলে সন্বোধন করলেও আমাদের কাছে এটা ছিল শুধুই মাইজদী গাঁ বা মাইজদী গেরাম।আমরা চিটিপত্রেও  ভিলেজ মাইজদী গ্রামই লিখতাম।অনেকে আবার মাইজদীকে এক গল্লির শহরও বলতো।

উন্নিশ আটশট্টি সালের দিকে আমি তখনও কোলের শিশুই প্রায়।তখন আমার বয়স ছিল সাড়ে তিন কি চার বছর।আমার চাচাতো বোন রাজিয়ার বিয়ে হতে যাচ্ছিল। রাজিয়া ছিল এতিম মা-হারা মেয়ে।রাজিয়ারা ভাইবোন দুজনকে রেখে রাজিয়া ভিজার মা অল্প বয়সেই মারা গেছেন।কথিত আছে বড় টাকার বান্ডিল দেখেই নাকি হার্টফেল করে মারা গিয়েছিলেন তিনি।সত্যমিথ্যা কিছুই জানিনা। মুলত শুনা কথা। রাজিয়া ভিজার মা আমার আপন চাচি হলেও রিস্তায় তিনি আমার মায়ের  মামাতো বোন ছিলেন। মা-ই নাকি ওকালতি করে  তাকে আমার হাবিব উল্লা চাচার সাথে বিয়ে দিয়েছেন।সেই যাই হউক আমরা আমাদের সেই চাচিকে কখনও দেখিনি।দেখেছি রাজিয়া ভিজাকে।নিশ্চয় রাজিয়া ভিজার মতই তার মাও ছিলেন।রাজিয়া ভিজা শান্ত শিষ্ট গুরু গম্ভির এবং বুদ্ধিমতি ছিলেন।তিনি বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসলে আমাদের ঘরে আসতেন। আমার মা এর সাথে বসে বসে কথা বলতেন।তারা ঢাকাতে থাকতেন, আমি একদুবার উনার বাসায় গিয়েছিলাম। আপন ভাইয়ের মতই তিনি আমাকে আদর সমাদর করেছেন।আমার সেই চাচাতো বোন রাজিয়া ভিজা কিছুদিন আগে ইন্তেকাল হয়েছেন।তাকে মাটি দেওয়া হয়েছে আমাদের বাড়ির সামনে মসজিদের পাশে।তার স্বামীও অত্যান্ত ভালো মনের জ্ঞানি একজন মানুষ। আমি দেশে আসলে উনার সাথে বসে বসে অনেক কথা হতো। সে যাই হউক,চাচি মারা যাবার পর চাচা কিছুদিন পরই অন্য বিয়ে করেছেন।চাচা চাচি আজ কেউই আর বেঁচে নেই।

রাজিয়া ভিজার বিয়ের উছিলায় বাড়ির  অন্নান্য বিয়ে হয়ে যাওয়া বোনদেরকে তাদের শ্বশুর বাড়ি থেকে নাইওরি হিসেবে আনা হয়েছিল। আমার বাপ চাচারা ছিলেন সাত ভাই।সাত ভাইয়ের সংসারে আমরা অনেক ভাই বোন।রাজিয়া ভিজার বিয়েতে সবার চোখে মুখে উপছে পড়া আনন্দ ছিল।আমার আপন বড় দুবোনের মধ্যে তো বড় বোন দেলাফ রোজ থাকতেন স্বামীর সাথে দিনাজপুর।ভাইসাব সেখানে তহশিলদারের চাকুরি করতেন।তাই তিনি আসতে পারেন নাই,কিন্তু আমার মেঝ বোন নুরজাহান নাইওরি হয়ে আসেন সেই বিয়েতে।নুরজানের ছেলে জাহাঙ্গীর তখন ছিল কোলে।ভাইসাব চাকুরি করতেন এনএসআই গোয়েন্ধা পুলিশ বিভাগে।তাদের বাড়ি ছিল মাইজদী বাজারের উত্তর দিকের প্রসিদ্ধ মজিদ হাজি বাড়ি।তিনিও এসেছিলেন সেই বিয়েতে।আমার শ্পষ্ট খেয়াল আছে তারা একদিন আগেই এসেছিলেন।

আমার বোন নুরজাহান ভালো গান করতে পারতেন।বাড়ির সব মেয়ে ছেলেরা সবাই পুরো রাত রাজিয়া ভিজাদের ঘরে গান বাজনা করে বিয়ের অনুষ্টানকে  উৎসব মুখরিত ও আনন্দময় করে তুলেছিলেন।তারা সবাই খাওয়া দাওয়াও করেছিল তাদের ঘরে। কিন্তু সকাল বেলায় দেখলাম এক আজব কান্ড।আমার যেই বোন নুরজাহানকে রাতে দেখলাম কেমন হাসিখুশি, সেই বোনটাকে দেখি সকাল বেলায় পাগলের মত বকাবকি করছে।বাড়ির সব মানুষ দাঁড়িয়ে তার দিকে অবাক বিশ্ময়ে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। বোনটি আমার পুরো বাড়ির উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছে নাচানাচি করছে।আবার কখনও কখনও কাউকে মারতে দৌড়ে যায়,কখনও বা এসে আমাকে কোলে তুলে আদর করছে,চুমো দিচ্ছে আর আবল তাবল বকাবকি করছে।আমি তো ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছি।মহিলারা ফিসফিশিয়ে  কেউ বলছে জ্বিনে পেয়েছে, কেউ বলছে পরীতে ধরেছে। পরী পেলে নাকি এমনি ভাবে নাচানাচি করে।আবার কেউ বলছে রাজিয়া ভিজার সৎ মা আমার চা্চি নাকি চিলের গোশতো খাইয়ে দিয়েছে।কেউ বলছে ধুতরা পাতা খাইয়ে দিয়েছে। চিলের গোশতো ধুতরা পাতার রস খাইলে নাকি মানুষ পাগল হয়ে যায়। আমার জানা নেই,বলতে পারব না।

বাংলায় একটি প্রবাধ আছে পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়,?আমার প্রিয় বোনটার অবস্হাও ঠিক সেই রকম হয়েছিল।সে আবল তাবল অনেক বকা বকছে আর বকছে। সবাইকে হুষিয়ার করছে,তোদের এখানে থানা হবে পুলিশ লাইন গারদ হবে।তোদের এখানে বড় বড় খাল হবে দীঘি হবে।দালান কোঠা হবে, ইত্যাদি।একবার হঠাৎ করে  সে উদাউ হয়ে গেল। চারিদিকে  সবাই খোঁজাখঁজি করে কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।এমতা অবস্হায় আমার সেজ বোন নুর নেহার ছোট বোন মায়াকে কোলে নিয়ে আমাদের বাড়ির উত্তর দিখে কাঁদতে কাঁদতে খুঁজতেছিল।হঠাৎ করে আমার বোন নুরজাহান পাকা ধান খেত থেকে বের হয়ে এসে নেরুকে জড়িয়ে ধরে বললো, কিরে বোন তুই এমন করে কাঁদছিস কেন? আমি তো বড় দীঘিতে গোসল করতে গিয়েছি।তখনো কিন্তু একোয়ার হয়নি, জেলখানার বড় দীঘিটিও কাটা হয়নি।তুই জানিস না এখানে যে বড় একটা দীঘি হবে? এই কথাগুলি আমার সেজ বোন নেরু ঘরে এসে পরে সবার সামনে বলেছিল।পরে সত্যিই জেলখানার বড় দীঘি কাটানো হয়েছে সেখানে।

এর মাত্র অল্প কিছু দিন পরেই সিএন্ডবির বড় বড় হলদে রঙের বল্ডুজার এসে গাছপালা সব উপড়িয়ে ফেলে ছোট বড় টিলাটালা কেটে সব সমান করে ফেললো।সরকারি একোয়ারে পড়া বাড়ি ঘরের অধিবাসিরা ঘর দরজা খুলে যে যার মত এদিকে সেদিকে চলে গেল।এক বাড়ির মানুষ শত বাড়িতে বিভক্ত হলো।সে এক করুন পরিণতি।অনেকটা নদী বাঙা সর্বহারার মত।

হাজারে হাজার প্রায় লক্ষধিক তো হবে পিপড়ার মত শ্রমজীবি মানুষরা এসে দু-তিন মাসের মধ্যেই মাটি কেটে বড় বড় দীঘি খাল কেটে রাস্তাঘাট নির্মান করে মাইজদী নতুন শহরের পত্তন করে ফেললো।জেল খানর দীঘি পুলিশ লাইনের দুটা দীঘি এবং হাসপাতালের একটি দীঘির কাজ এক সাথেই শুরু হয়েছিল।বিল্ডিং এর কাজও একসাথে শুরু হয়েছিল।মাটিয়ালরা চলে যাবার পর শুধু  রাজ মিস্ত্রিও  শ্রমিকরা  বাঁকি কনস্ট্রাকসনের কাজ চালিয়ে গেল।জেলখানা পুলিশ লাইন আধুনিক সদর হাসপাতাল স্কুল আবাসিক ভবন সবকিছুই এক বছরের মধ্যে বেশির ভাগই নির্মান হয়ে গেল।কিন্তু চালু হলো না।বেশ কয় বছর ধরে এমনিই খালিই পড়েছিল সব।চালু হয়েছিল দেশ স্বাধিনের পর।এই সব বড় বড় বিল্ডিং এর ভিতর বর্ষার দিনে আমরা বল খেলতাম, লুকোচুরি খেলতাম।মাঠে গরু চেড়ে দিতাম। আর রয়ে যাওয়া গাছাগাছরা থেকে ফলমুল পেড়ে খেতাম।দুর দুর থেকে ছেলেমেয়েরা গরু ছাগল এনে চেড়ে দিত, আবার দুর্বা ঘাঁস তুলে সাথে করে নিয়ে যেত।

 এখানে কাজ চলার সময় আমার ছোট চাচা পাটোয়ারি এসে খুললো চা দোকান, তার পাশেই আরেক চাচা শফি সর্দার এসে খুললেন মুদি দোকান।আরো অনেক ছোটখাটো চা-নাস্তার দোকান খুলেছিল লোকজনে।গুলগুল্লা ডালের ভরা প্ররোটা  সাথে চা এগুলোই বানাতো বেশি।চলতোও ধুমছে।হাজার হাজার মাটিয়াল কাস্টমার মাটিতে বসেই খেত। রাতদিন কাজ চলতো।দুর দুর থেকে মাটিয়ালরা তো খড়ের ছালা নিয়ে এসে দুছালাকে একসাথ করে ঘর বানিয়ে স্হায়ি ভাবে থাকতো।রাতদিন কাজ চলতো।বড় বড় লাই-ওঁড়া ভরে তাদের জন্য ভাত পাকাতো বৃদ্ধ বয়সের এবং তরুন বয়সের ছেলেরা।একবার এক কান্ড ঘটেগেল।দেখি একটা ছেলেকে মাটিয়ালরা মারছে। ব্যপারকি? পরে জানতে পারলাম সেই ছেলেটা নাকি তরকারিতে তেলদাগার সরিসার তেলের পরিবর্তে লোহা গরম করে দাগা দিত। আর তেল গুলি নাকি ফের দোকানে বিক্রি করে দিত।ধরা পড়ার পরে এই অবস্হা।হাসির খোরাক হলেও ছেলেটা দুর্দান্ত ছালাক ছিলও বটে।
তাদের কাছ থেকে স্হানিয় লোকেরা বাল্টি ভরে ভাতের মাড় লয়ে গরুকে খাওয়াতো।আমরা স্হানিয় ছেলেরা গুরেফিরে এগুলো দেখতাম।বিকেল বেলায় মঠর সাইকেল করে শহর থেকে কন্ট্রাকটর সাহেবরা আসতেন টাকার বস্তা নিয়ে। মাটিয়ালের সর্দাররা হিসেব দিয়ে টাকা বুঝে নিতেন, সবাইকে বেঁটে দিতেন।আমরা চেয়ে চেয়ে দেখতাম টাকা গুনার দৃশ্য।
দেখতে দেখতে সবকিছু বদলে গেল।সুনসান  ছায়া সুনিবিড় মফস্বল গ্রামটা হয়ে গেল  আধুণিক  একটি নগর।বড় বড় বিল্ডিং,জেলাখানার বৃত্তওয়াল,আটাশ পিট চোওড়া কংক্রিটের পাকা রাস্তা।মাঝেমধ্যে মঠর যানের  ঠ্যা ঠ্যা শব্দ করে ছুটে যাওয়া,বেশ ভালো লাগতো অপূর্ব আনন্দ পেতাম। প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিসের সাথে পরিচয় হতে হতে আমিও যেন অল্প কিছু দিনের মধ্যে বেশ বড় হতে লাগলাম।আনন্দে উপভোগ করছিলাম সেই সোনালি শৈশবকে ।আজি এই মধ্য বয়সে এসেও শৈশবের সেই সৃতিগুলি আমার হৃদয় দর্পনে সিনেমার স্ক্রিনের মত বার বার ভেসে উঠে।

আরেকটা কথা না বললেই নয়,আমার এক দেড় বছর বয়সের সময় আমার এক পাঁয়ের হাঁটু পোড়া গিয়েছিল।সেই কথাও আমার শ্পষ্ট মনে আছে। আজো যেন চোখের সামনে ভাসছে।এক শীতের রাতে মা পাকঘরে চুলার সামনে একটা জলচৌকিতে আমাকে বসায়ে ধান সিদ্ধ করছিল।মায়ের সাথে একজন কাজের বেটিও ছিল।ঝিমানি এসে হঠাৎ করে চুলার ভিতরে খনখনে তুষের আগুনের মধ্যে আমার পাঁ ঢুকে গেল।কচি পাঁ সাথে সাথে পুড়ে পোসকা ধরে গেল।আমি কি কষ্ট পেয়েছি না পেয়েছি আমার মা আমার জন্য অনেক অনেক কষ্ট পেয়েছেন।মা আমার জন্য অনেক কেঁদেছেন।মাঁ এর সেই কান্না আজো আমার চোখে ভাসে।মা আমাকে নিয়ে একবার বড়দীগির পুর্ব পাড়ের পুরান হাসপাতালে নিয়ে গেলেন।পরে মাখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন,আবার বাড়িতে কবিরাজের কাছেও চিকিৎসা করিয়েছেন।অনেকদিন পরে সেই পোড়া খত শুকিয়েছিল।

সরকারি এই সব দালান কোঠা হওয়ার পুর্বে আমাদের এলাকায় অর্থ্যাৎ এই পশ্চিম মাইজদীতে পাকা বাড়ি বলতে ছিল মাত্র চারটা বাড়ি। তাও আবার সেমি পাকা বা সার্ট দেওয়াওলা।একটা ছিল মানির বাড়ি,মানির বাবা অবঃ পুলিশ ইন্নিসপেক্টরের বাড়ি, উকশিায়ারের বাড়ি, এবং মজিদ কেরণীর বাড়ি।মানি ছিলেন বিধবা মহিলা। তার স্বামী নাকি ডাক্তার ছিলেন।তিনি মারা গিয়েছেন।আমরা দেখি নাই।
ঐ একোয়ারের বছর ছিদ্দিক ডাক্তার নামে আমাদের এক দুরের পড়শি এসে কমপ্লিট ছাদ ঢালাই দিয়ে পাকা বাড়ি নির্মান করেন।সম্পুর্ন ব্রিকের উপর সুন্দর এই বাংলো বাড়িটি বাইন্ডারি ওয়াল দিয়ে নির্মান করেছিলেন।কথিত আছে এই বাড়িটির উপরে যতটুকু নীচেও ঠিক ততটুকু।আমাদের চোখের সামনেই বাড়িটি নির্মিত হয়েছিল।বাড়িটি নির্মান হওয়ার পরে সাদা চুনের লেপন দেওয়ার পর ঝকমক করতো, চোক লেগে থাকতো। আমরা বাড়ির ভিতরে গুরেফিরে অনেক বার দেখেছি।

বাড়িটি নির্মানের বেশ কিছুদিন পরে ডাক্তার সাহেব রংপুর বা দুর কোন জেলাথেকে এসে এই বাড়িতে উঠলেন।যেদিন এসে উঠলেন সেই দিন রাতেই ডাঃ সাহেব হার্ট এটাক করে মারা গেলেন।পরে শুনেছি লোকে কহা বলা করতো, এই ডাক্তার সাহেব নাকি মানুষের ফিৎরা জাকাতের টাকা দিয়ে লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হয়েছেন। কিন্তু এলাকার মানুষের দিকে কোনদিন ফিরেও তাকাননি।এমন কি সত্রুপক্ষের টাকা খেয়ে নাকি একজন মানুষকে বিষাক্ত ইঞ্জেকসান দিয়ে হত্যা করেছেন।সে কারণেই নাকি তার এমন অবস্হা।হায় হায়রে ডাক্তার সাহেব স্বপ্নের বাড়িতে এক রাতও গুমাতে পারেননি।সত্যমিথ্যা বলতে পারব না।সবি শুনা কথা।

ডাক্তার সাহেবের স্ত্রি এবং সন্তানরা ছিল টুকটুকে সুন্দর।দেখতে চালচলনে অবিকল ফরিনারের মত। দু ছেলে চার মেয়ে সবাই বড় হয়ে গেছে।মেয়েদের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে বড় বড় পুলিশ অফিসার আর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের সাথে।পরে ছোট মেয়েরও ধুমধামে বিয়ে হয়েছিল এখানেই। বাসায় স্হায়ি ভাবে থাকতো বড় ছেলে পারবেজ আর তার মা।পারবেজ ছিল টাউট  টাইফের মানুষ এলাকার মানুষকে মোটেই পাত্তা দিত না।শহরে কিছুদিন কন্ট্রাক্টরি করতো,হুন্ডা একটা চালাতো আর মদ খেত জুয়া খেলতো।একবার এক্সিডেন্ট হয়ে পাঁ ভাঙার পর হুন্ডা চালানো চেড়ে দিয়েছে সে।বাসায় পালতো জার্মানী শিফা কুকুর।দেখতে বাঘের মত।দেখলে তো দুরের কথা কুকুরের আওয়াজ শুনলেও ভয় বুক ধক ধক করতো।কুকুরটাকে অবশ্য শিকল দিয়ে বাসার ভাউন্ডারি ওয়ালেল ভিতর বেঁধে রাখা হতো। মাঝে মাঝে পারবেজ কুকুরটাকে বাহিরে এনে চেড়ে দিত। আমরা দেখে ভয়ে আতঙ্কিত হতাম।আজ সেই পারবেজ বাসার ছাদে মুরগি পালে,সম্পুর্ন একজন খালি  আদমি।


                                                
 

কোন মন্তব্য নেই: